‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ অর্জন ও করণীয়’ – প্রেস মিটিং

‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ অর্জন ও করণীয়’ – প্রেস মিটিং

দেশে শিক্ষত বেকারের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবমতে, দেশে এখন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশি। এর পেছনে শুধু কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতাই দায়ী নয়, বরং আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যাবস্থাও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই যুক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, লাখে লাখে শিক্ষিত তরুণ কর্মসংস্থানের খোঁজে দেশের বাইরে যাচ্ছেন বটে, কিন্তু সেখানেও তারা যথেষ্ট মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। মূল্যায়ন না পাওয়ার প্রথম কারণ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের তরুণদেরকে বিশ্ববাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে না; আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক রাজনীতি। বৈশ্বিক রাজনীতির চোখে বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের এক অনুন্নত দেশ, যেখানে নেই কোনো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই সেখানে মেধাবী তরুণ প্রজন্ম গড়ে ওঠার প্রশ্নই ওঠেনা।

এই দুই জায়গাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। প্রথমত: বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববাজারের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের সিলেবাসে আর্ট অব লিভিং, এমপ্লয়াবিলিটি ৩৬০ডিগ্রি, চেঞ্জ টুগেদার, ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লেকচার সিরিজসহ নানা বিষয় যুক্ত করেছে। শিক্ষার্থীদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে চালু করছে ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ নামে চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্সের স্বতন্ত্র বিভাগ। দ্বিতীয়ত: বৈশ্বিক রাজনীতি মোকাবেলা করতে নিজেদেরকে যুক্ত করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী সব নেটওয়ার্কের সঙ্গে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের নামিদামি তিন শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছে। সমঝোতা অনুযায়ী ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন, গবেষণা করতে যাচ্ছেন, সংস্কৃতি বিনিময় প্রোগ্রাম, লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ নানা কিছুতে অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্বমঞ্চে জানান দিচ্ছেন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার। ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধীরে ধীরে ভুল ভাঙছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের। এসবের পাশাপাশি কফম্যান ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন), চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল (সিওয়াইএফআই) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই ধারার সর্বশেষ সংযোজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের Association of Universities of Asia and the Pacific (AUAP) এর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ( ২০১৯-২০১২০), প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ( ২০২১-২০২২) এবং সভাপতি ( ২০২৩-২০২৪) নির্বাচিত হওয়া ।

গত ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এইউএপির ১৬তম সাধারণ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের সুরানারি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির রেক্টর অধ্যাপক ড. ইউরাপং পেয়ারসুয়াং এবং ভারতের হিন্দুস্তান গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আনন্দ জ্যাকব ভার্গিসকে বিপুল ভোটে (সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ) পরাজিত করে ড. মো. সবুর খান এইউএপি’র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে সগৌরবে উত্তোলিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। এইউএপির নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ড. মো. সবুর খান স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে উত্তীর্ণ হবেন এবং দুই বছর এই পদে দায়িত্ব পালনের পর প্রেসিডেন্টের পদ অলঙ্কৃত করবেন। ফলে আগামী ৮ বছর আন্তর্জাতিক এই সংগঠনে নেতৃত্ব দেবেন ড. মো. সবুর খান। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মো. সবুর খান এইউএপির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বদরবারে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। এখন থেকে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার্থে এবং বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি বিনিময় প্রোগ্রাম, লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ সব ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এইউএপির সদস্য হওয়ার পথও সুগম হলো। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে থেকে সরেজমিন অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং সেই মোতাবেক আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আগামী দিনের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আন্তর্জাতিক চাকরি বাজারে মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আজ রোববার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলামের সভাপতিত্তে অনুষ্ঠিত এ মিট দ্য প্রেসে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। মিট দ্যা প্রেস সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়েল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মো. সবুর খান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমুহের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের পতাকা না থাকাটা ছিল আমাদের জন্য ছিল ভীষণ বেদনার। বিগত পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করেছি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে বাংলাদেশেকে এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার। আজ সত্যিই আনন্দের দিন একারণে যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পতাকা এইউএপির মঞ্চে উড়ল। ড. মো. সবুর খান বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের প্রেসিডেন্ট এবং এইউএপির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদ নিলি আহমাদ আবাদি, সাউথ কোরিয়ার দায়েগু হেলথ কলেজের প্রেসিডেন্ট এবং এইউএপির প্রেসিডেন্ট ড. সাং হি ন্যাম, ফিলিপাইনের মাস্টার্স ইনস্টিটিউট ডেভলপমেন্ট একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারির প্রেসিডেন্ট ও এইউএপির সেক্রেটারি জেনারেল ড. রিকার্ডো পামা,

ফিলিপাইনের টার্লেক স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও এইউএপির সদস্য ড. মালারি মাইরনা, চীনের সিয়াস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ও এইউএপির এডভাইসরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. শান এস চেন এবং ব্রুনেই দারুসসালামের সুলতান শরিফ আলী ইসলামিক ইউনিভার্সিটির রেক্টর এবং এইউএপির সদস্য ড. হাজি নোরারফান বিন হাজি জাইনালের প্রতি। কারণ এই ব্যক্তির্গ নির্বাচনের আগেই ড. মো. সবুর খানকে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এছাড়াও ড. মো. সবুর খান বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমআর কবিরের প্রতি, যিনি এইউএপির সাধারণ সম্মেলনে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন।

গত ৯-১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এইউএপির কোয়ালিটি এক্রিডিটেশন সভার আয়োজন করেছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তখন এইউএপি কোয়ালিটি এক্রিডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মো. সবুর খান। সেসময় বাংলাদেশে এক্রিডিটেশন সভায় যোদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইপিইকেএ’র সিইও এডভাইসর ড. জ্যানেট লরি ন্যাসন, ফুলব্রাইট থাইল্যান্ডের সাবেক পরিচালক পর্নটিপ কানজানানিয়ত, ইন্দোনেশিয়ার ডিরেক্টর অব পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিস ইউনিভার্সিটাস মোহাম্মাদিয়াহ ইয়োগায়াকাতার পরিচালক অধ্যাপক ড. শ্রী আতমাজা পুত্র, ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. রিজা আতিক আব্দুল্লাহ, ফিলিপাইনের অ্যাডামসন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ক্যাথেরিন কাস্তানেদা, এইউএপির সেক্রেটারি জেনারেল ও থাইল্যান্ডের টিম লিডার অধ্যাপক ড. রিকার্ডো পামা এবং এইউএপির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুপাপর্ন চুয়াংসিডের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. মো. সবুর খান।

ডিসিসির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে এইউএপির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করেন ড. মো. সবুর খান। ডিসিসিতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়া যায় না। অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের পদ থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চপদে আসীন হতে হয়। এইউএপিতেও ঠিক সেরকম। প্রথমে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট, তারপর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সবশেষে প্রেসিডেন্ট। ডিসিসির প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ড. মো. সবুর খান অনেক সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এইইউএপির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বার্তা প্রেরক,

মোঃ আানোয়ার হাবিব কাজল
ঊর্ধ্বতন সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ)
মোবাইলঃ ০১৮১১৪৫৮৮১৫, ০১৭১৩৪৯৩০১৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *