IMPORTANCE OF Greetings IN HUMAN LIFE

IMPORTANCE OF Greetings IN HUMAN LIFE

 

একটি শিশু যখন জন্ম গ্রহণ করে তখন  তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সকলেই অধির আগ্রহে যে জিনিসটির জন্য অপেক্ষা করে সেটি হলো শিশুটির কান্না। অর্থাৎ একটি শিশু জন্ম গ্রহণের পরেই তার কান্নার দ্বারা সকলকে জানান দেয় যে এই পৃথিবীতে তার আগমণ ঘটেছে। কোন শিশু যদি জন্মের পরে কান্না না করে তবে বুঝে নিতে হয় নিশ্চই শিশুটির মধ্যে কোন ধরণের সমস্যা আছে যা তার বাবা-মায়ের জন্য দুশ্চিন্তার একটি কারণ। এ ঘটনাটি থেকে যা বোঝা যায় একটি মানুষ পৃথিবীতে আসার পর তার প্রথম যে কাজটি করে সেটি হলো সকলকে তার ভাষায় তার আগমনের বার্তাটি দেয়া এবং এই কাজটিই একটি মানুষ তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে থাকে অর্থাৎ গোটা জীবনে যখনই তার সাথে কারো দেখা হয় বা তার সাথে কেউ দেখা করতে আসে তখন তার প্রথম কাজটিই থাকে ঐ ব্যক্তিকে সালাম দিয়ে তাকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে নিজেকে তার সামনে উপস্থাপিত করা।

মানুষ ছোটবেলা থেকে তার পরিবারের কাছ থেকে যেসকল আদব-কায়দা, রীতি-নীতি ও শিষ্ঠাচারের গুণাবলী অর্জন করে থাকে তার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপুর্ণ হচ্ছে মানুষকে সালাম দেয়া। দুজন মানুষের মধ্যে যখন প্রথম দেখা হয়, হতে পারে তারা একে অন্যের পরিচিত বা অপরিচিত তখন তাদের মধ্যে সর্ব প্রথম যেভাবে ভাব বিনিময় হয় সেটিই হচ্ছে সালাম। যখন দুজন অপরিচিত মানুষের একে অন্যের সাথে দেখা হয় তখন তাদের দুজনের মধ্যেই একটা সংকোচ কাজ করে যে তারা কিভাবে একে অন্যের সাথে কথা বলা শুরু করবে। আর এক্ষেত্রে সালাম হচ্ছে মোক্ষম একটি উপায় কারণ সালামের মাধ্যমে মানুষের মধ্যকার যে অহংকার ও নিজেকে বড় ভাবার যে প্রবনতা সেটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। সালামের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ কোন ভেদাভেদ নেই। দুজন অপরিচিত মানুষের মধ্যে যদি একজন উচু শ্রেণীর ব্যক্তি থেকে থাকে এবং সেই ব্যক্তি যদি অপরজনকে আগে সালাম দেয় তবে ঐ ব্যক্তির প্রতি অপর ব্যক্তির মনে একটি সম্মানের স্থান তৈরী হয়। তখন তাদের মধ্যে আপনাতেই একটি আত্মীক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে যায় ও তারা খুব সুন্দর ভাবে ও খুব সহজেই তাদের কথা বার্তা চালিয়ে যেতে পারে। আর এভাবেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু, সাদা-কালো সকলেই সকলের সাথে মিশে যায় এক নিমিষেই। 

আমরা যদি ধর্মীয় শিক্ষার দিকে যাই তবে আমরা দেখবো প্রায় সকল ধর্মেই মানুষের প্রতি মানুষের সুন্দর ব্যবহার ও Greetings এর কথা বলা হয়েছে। আমাদের মহানবী (সঃ) এর কথা যদি বলতে চাই তবে আমরা দেখবো তিনি সব সময় চেষ্টা করতেন কারো সাথে দেখা হলেই সবার আগে সালাম দিতে। তিনি কখনো দেখতেন না যে তিনি যাকে সালাম দিচ্ছেন তিনি তার থেকে বয়স, অর্থ বা জাতে ছোট কিনা। তার চোখে সকল মানুষই ছিল সমান এবং সমান সম্মানের অধিকারী। সুতরাং সালাম বা Greetings যে শুধু মাত্র ছোটরা বড়দের দিবে, নিচুরা উঁচুদের দিবে, গরিবেরা ধনীদের দিবে, কর্মীরা মালিকদের দিবে এমনটা নয়। প্রত্যেকেরই অধিকার আছে সালাম দেবার ও সালাম পাবার। এই অভ্যাসটির দ্বারা সমাজে সকলের মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং সেই সাথে সকলের মধ্যে একটি ভারসাম্যও বজায় থাকে।

আমরা জানি, First Impression Is The Best Impression. যখনই দুজন অপরিচিত ব্যক্তির একে অন্যের সাথে দেখা হয় তখন তারা একে অন্যকে পরিমাপ করে সালামের দ্বারাই। সালাম দেয়া, না দেয়া, সালাম দেবার ধরণ এ সব কিছুর মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় যে ঐ ব্যক্তির আদব-কায়দা কেমন, এমনকি সে মানুষ হিসেবে কেমন সেটিও প্রকাশ পায় তার সালামের ধরণ থেকে। মূলত সমাজে যারা বড়রা বা মুরুব্বীরা আছেন তারা এই বিষয় গুলি বেশী লক্ষ্য রাখেন। সালামের ধরণ দেখে তারা খুব সহজেই বুঝতে পারেন মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি সম্পর্কে। অনেকেই আছে বিশেষ করে ছোটরা, যারা সালাম দেয় ঠিকই কিন্তু সেটা আদবের সাথে নয়। আর এখানেই প্রথম দর্শনেই একজন অপরিচিত মানুষের নিকট তাদের Impression নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরণের মানুষ সালাম দিলেই বরং তখন অন্যরা বিরক্ত হয় কারণ যে সালাম দিচ্ছে সে মন থেকে সেটা দিচ্ছে না। কাউকে সালাম দেয়া বা Greetings জানানো মানেই হচ্ছে মন থেকে তার মঙ্গল কামনা করা। যা মন থেকে কখনো আসে না তার প্রভাব আচরণের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয় যার কারণে যাকে সালাম দেয়া হচ্ছে সে বুঝতে পারে যে তাকে লোক দেখানো বা অবহেলা করে সালাম দেয়া হচ্ছে। এর ফলে সম্পর্ক তৈরীর বদলে বরং সম্পর্ক নষ্ট হয়। সুতরাং সালাম শুধু দেয়াই নয় বরং আদবের সাথে সালাম দেয়াও মানুষের নৈতিক শিক্ষার একটি অংশ।

একে অন্যকে Greetings জানানো বলতে যে শুধু মাত্র মুসলমানদের মত করে সালাম জানানো, তা কিন্তু নয়। সালামের অর্থটি অনেক বৃহৎ। যদি দুজন ব্যক্তি মুসলমান হয় তবে তারা একে অপরকে সালাম দিবে আর যদি অন্য ধর্মের হয় তবে তারা সেই অনুযায়ী একে অপরকে Greetings জানাবে কিংবা তারা শুধুমাত্র Good Morning, Good Afternoon, Hi, Hellow এসকল শব্দও ব্যবহার করতে পারে একে অপরের সাথে প্রথম দেখাতে। এই ছোট ছোট Greetings গুলোই সাহায্য করে মানুষের মধ্যে একে অপরের প্রতি দুরত্ব কমাতে। সালাম বা Greetings জানানোর প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে একে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করা এবং মঙ্গল কামনার মাধ্যমে কথা শুরু করা আর এটি যে কোন উপায়েই হতে পারে। শুধু মাত্র যে ধর্মীয় উপায়ে সালামের মাধ্যমেই Greetings জানাতে হবে তা কিন্তু নয়। অনেক সময় দেখা যায় যে অন্যান্য ধর্মের মানুষেরাও মুসলমানদের মত করে সালাম দিয়ে থাকে কারণ আমাদের সমাজে একটি রীতি প্রচলিত হয়ে গেছে যে মুসলমানদের মত করে সালাম না দিলে মানুষ একটু অন্য চোখে দেখে বা খারাপ ভাবে যার কারণে মনে করা হয় শুধু মাত্র ‘আসসালামু আলাইকুম’ বা সালাম দিলেই অন্যকে খুশি করা যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ঠিক নয়। প্রত্যেক ধর্মের মানুষেরই অধিকার আছে তাদের নিজস্ব রীতিকে অনুসরণ করে অন্য ধর্মের মানুষকে Greetings জানানো। এক ধর্মের রীতি অন্য ধর্মের মানুষের উপর চাপিয়ে দিলে বা এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের রীতিকে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনুসরন করা শুরু করলে ধর্মীয় মুল্যবোধ এবং ভিন্ন ধর্মের প্রতি যে সম্মান সেটি আর থাকবে না। সুতরাং শুধুমাত্র সামাজিক সৌহার্দ্যই নয় বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এই সালাম বা Greetings অনেক গুরুত্ব বহণ করে। 

কর্পোরেট বিশ্বেও এই অভ্যাসটির গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্দর ব্যবহার ও Greetings অনেক ক্ষেত্রেই সাহায্য করে একটি নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক শুরু হতে। যে কোন বিজনেস ডিল হোক, কনট্রাক্ট সাইন হোক কিংবা বোর্ড মিটিং হোক সব কিছুর শুরুতে একটি ছোট্ট Greetings দ্বারা তৈরী হয় একটি নতুন সূচনার। অফিসে নতুন কোন কলিগ আসলে তাকে সুন্দর Greetings দ্বারা বরণ করে নিলে অথবা সে যদি একটি সুন্দর Greetings দ্বারা সকলের সাথে নিজে থেকে পরিচিত হয় তবে গোটা অফিসেই একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। একই ব্যাপার একজন Boss এবং তার Employee এর মধ্যেও বিদ্যমান। একজন Boss ও তার Employee এর মধ্যে সম্পর্ক যত ভাল ও নমনীয় হবে তাদের কাজের গতিও ততই বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন অফিসের সকল Employee দের একে অন্যের সাথে প্রথম দেখা হবার মুহুর্তটাই যদি হয় একটি সুন্দর Greetings এর দ্বারা তাহলে তারা Fresh Mind এ একে অন্যের সাথে মিলেমিশে সুন্দর ভাবে তাদের অফিসের কাজ গুলো শুরু করতে পারে। এতে করে অফিসের সকলের মাঝে পারস্বপরিক বোঝাপোড়া ও একে অন্যকে সহযোগিতা করার মনোভাব গড়ে ওঠে। 

পাশাপাশি Marketing Sector এর কথা যদি আলাদা করে বলতে হয় তবে এই Sector এ সালাম বা Greetings এর গুরুত্ব সব থেকে বেশী। একজন Marketing অফিসার যখন তার Client এর সাথে দেখা করে তখন Clientকে Convince করার জন্য একটি সুন্দর Greetings দিয়ে কথা শুরু করার থেকে আর কোন মোক্ষম উপায় হতেই পারে না কারণ আমরা জানি First Impression Is The Best Impression। Client যদি ঐ অফিসারের নিকট হতে সুন্দর ব্যবহার পায় তবে সে অবশ্যই চাইবে তার কথা গুলো শুনতে আর যখনই একজন Marketing অফিসার তার Client এর মনোযোগ তার প্রতি নিয়ে নিতে পারবে তখন তার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এই Conceptটি সব থেকে বেশী গুরুত্ব পায় রিসিপশন টেবিলে। আমরা জানি যে কোন অফিসে রিসিপশন টেবিল নামক একটি আলাদা অংশ থাকে যেখানে একজন রিসিপশনিস্ট বসে যার কাজ হচ্ছে যে কোন গ্রাহক, Visitor বা অফিসারকে তার কাংক্ষিত তথ্য সরবরাহ করা। বাহিরের কোন একটি ব্যক্তির কাছে কোন একটি নতুন কোম্পানী সম্পর্কে ভাল বা মন্দ ধারনা কিন্তু রিসিপশন টেবিল থেকেই আসে। একজন রিসিপশনিস্ট যদি কোন Visitor এর সাথে Greetings না দিয়ে হাসি মুখে সুন্দর করে কথা না বলে, তার মুখ যদি গোমড়া থাকে ও ব্যবহার যদি খারাপ থাকে তবে সেই কোম্পানী ও কোম্পানীর Service যতই ভাল থাকুক না কেন একজন গ্রাহক কখনই সেই কোম্পানীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে না বরং সেই গ্রাহকটিই বাহিরে অন্যদের কাছে ঐ কোম্পানীর ব্যাপারে Negative Marketing করবে। একজন রিসিপশনিস্টের ভূমিকা সব থেকে বেশী কার্যকর থাকে হাসপাতাল ও হোটেলগুলোতে কারণ এখানে মানুষেরা সরাসরি সেবা নিতে যায়। তাই একটি সামান্য সালাম, Greetings ও হাসি দ্বারাই কিন্তু এসব জায়গায় খুব সহজেই গ্রাহকদের মন জয় করে নেয়া যায়। 

সালাম বা Greetings এর গুরুত্ব যে কতখানি তা আমরা একটি Case Study থেকে বুঝতে পারবো। একটি অফিসে একজন মহিলা Employee ছিল, যে সব সময় অফিসে ঢুকতে ও অফিস শেষে বের হবার সময় অফিসের দারোয়ানকে সুন্দর করে হাসি দিয়ে সালাম দিত যার কারণে ঐ দারোয়ানটাও ঐ ম্যাডামকে সবার থেকে আলাদা করে বেশ শ্রদ্ধার নজরে দেখতো কারণ ঐ অফিসে একমাত্র সেই ছিল একমাত্র ব্যক্তি যে ঐ দারোয়ানকে প্রতিদিন Greetings জানাতো। একদিন অফিস শেষে সবাই বের হয়ে গেলে ঐ দারোয়ান যখন অফিস বন্ধ করতে যাবে তখন তার খেয়াল হলো যে সেই ম্যাডাম এখনো বের হননি কারণ তিনি সব সময় অফিসে ঢোকার ও বের হবার সময় দারোয়ানকে Greetings জানাতো যার জন্য দারোয়ানটাও সব সময় অপেক্ষা করতো ঐ দুটি মুহূর্তের জন্য এবং আলাদা করে ম্যাডামের যাওয়া আসার সময়টাও মনে রাখতো। কিন্তু আজ ম্যাডামের কাছ থেকে অফিসের শুরুতে Greetings পেয়েছে কিন্তু অফিস শেষে পায়নি, অর্থাৎ ম্যাডাম এখনো অফিস থেকে বের হননি। এই সব ভেবে দারোয়ানটি অফিসের ভিতর প্রবেশ করে ম্যাডামের খোঁজে। সব রুমে সে খুঁজে দেখে কিন্তু কোথায় ম্যাডামকে পায় না। অতঃপর কৌতুহল বশত সে অফিসের কোল্ড স্টোরেজ রুমের দরজা খুলে দেখে সেখানে ম্যাডাম অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। ঐ রুমের দরজাটি ছিল খুব শক্ত। কোন কারণে ম্যাডাম ঐ রুমটিতে প্রবেশ করার পর রুমের দরজা লক হয়ে যায় ও ম্যাডাম তা খুলতে না পারায় অতিরিক্ত ঠান্ডায় সেন্সলেস হয়ে যায়। অবশেষ, ম্যাডামকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ও একটু পরেই সে সুস্থ হয়ে ওঠে। তখন যে ঐ দারোয়ানকে প্রশ্ন করে অফিসের শত শত Employee এর মাঝে সে কিভাবে তার কথা মনে রেখে তার খোঁজ বের করেছিল? তখন উত্তরে দারোয়ান বলে যে, গোটা অফিসের শত শত Employee এর মাঝে সেই একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা তাকে সম্মান দিয়ে প্রতিদিন আসা ও যাওয়ার সময় Greetings জানায় যার কারণে সে সব সময় অপেক্ষা করে থাকে ঐ দুটি সুন্দর মুহূর্তের জন্য। আর এই কারণেই সে মনে রাখতে পেরেছে যে ঐ দিন শত শত Employee এর মাঝে ম্যাডাম অফিস শেষে বের হননি আর তাই ম্যাডামকে খুঁজতে যাওয়া। এটি কোন নিছক ঘটনা নয়। এ ঘটনা বাস্তব থেকেই নেয়া যা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয় মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহারের এবং তার ফলাফল যে কত মধুর তা উপলব্ধি করতে। 

যেকোন চাকরীর ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা বসে থাকেন তাদের একজন প্রার্থীকে পরিমাপ করার প্রথম মাপকাঠিটিই থাকে সালাম বা Greetings. একজন প্রার্থী যখন ইন্টারভিউ রুমে ঢোকে তখন তার সামনে বসে থাকা স্যারদের দেখে সে প্রথমেই তাদেরকে সালাম বা Greetings জানায়। আর যেহেতু একেকজন মানুষের সালাম দেবার ধরণ একেক রকম সুতরাং শুধুমাত্র এই ছোট্ট বিষয়টি থেকেই ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রশ্নকর্তারা বুঝে ফেলেন যে এই প্রার্থীটির আদব-কায়দা, সামাজিকতা, ধর্ম, পারিবারিক শিক্ষা সব কিছু। অর্থাৎ প্রথম দর্শনে এভাবেই তারা অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে এই প্রার্থীকে তারা রাখবেন নাকি বাদ দিবেন। সুতরাং প্রত্যেক ইন্টারভিউ প্রার্থীকে অবশ্যই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে ইন্টারভিউ বোর্ডে যাবার আগে।

আমাদের সমাজে নানান স্তরের মানুষ বসবাস করে। কেউ ধনী, কেউ গরীব, কেউ উচু কেউ নিচু কিন্তু এই সব কিছুর উর্ধে সবার একটি পরিচয়, তারা মানুষ। দুঃখের বিষয় হচ্ছে যুগ যুগ ধরে মানুষ যতই সাম্যের গান গাক না কেন, সমাজ ও জাতি থেকে এই বৈষম্য ও ভেদাভেদ কখনো কেউ দূর করতে পারেনি। কিন্তু সব থেকে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে সমাজ থেকে এইও ভেদাভেদ দূর করতে খুব বড় কিছুর প্রয়োজন নেই। সালাম বা ছোট্ট একটি Greetingsই পারে মানুষের অন্তর থেকে নিজেকে বড় ভাবার ও অন্যকে ছোট ভাবার যে মিথ্যা অহমিকা, সেটিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে। সালাম বা Greetings যে শুধু উচু স্তরের মানুষের প্রাপ্যতা ভাবা সম্পুর্ণ ভুল। একটি সমাজে যত স্তরের মানুষ আছে হোক সে একজন Lift-man, বাস ড্রাইভার, হোটেলের বেয়ারা, অফিসের পিয়ন, দারোয়ান কিংবা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন অপরিচিত ব্যক্তি, সকলের সাথে দেখা হলেই সালাম বা Greetings দেয়া উচিত। এতে করে সেই ব্যক্তির মাঝে একটি উপলব্ধি হয় যে সালাম প্রদানকারী তার প্রতি সম্মান ও শুভ কামনা প্রকাশ করছে। যার কারণে ঐ ব্যক্তির মনেও সালামপ্রদানকারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সৃষ্টি হয়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সমাজ থেকে বৈষম্য ও ভেদাভেদ দুরীকরণ সম্ভব।

সালাম বা Greetings খুবই ছোট একটি বা দুইটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত কিন্তু এই ছোট্ট বিষয়টিই যুগের পর যুগ গোটা মানব সমাজকে বেধে রেখেছে একটি সম্প্রীতির বাধনে। এই রেওয়াজটি যদি মানুষের মধ্যে গড়ে না উঠতো তবে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, বিশ্বাস, মুল্যবোধ, সৌহার্দ্য, বন্ধন কোনটাই তৈরী হত না। ধর্মীয় অনুশাসনই হোক কিংবা সামাজিকতা রক্ষা একটি ছোট শিশুকে ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাসটির চর্চা করানো হলে তার মধ্যে আদব-কায়দা, নীতি-নৈতিকতার ধারণা নিজে থেকেই সৃষ্টি হওয়া শুরু করে। অর্থাৎ এসকল মুল্যবোধ ও ধারনার শুরুই হচ্ছে সালাম বা Greetings. সর্বোপরি, কেউ যদি নিজেকে একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে সমাজ, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সকলের সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে চায় তবে তার নিকট এই সালাম বা Greetings এর অভ্যাসটি গড়ে তোলার থেকে বিকল্প ও মোক্ষম উপায় আর কোন কিছুই হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *