বর্ষসেরা আইসিটি ব্যক্তিত্ব ড. মো. সবুর খান

  • লিডারশিপ ডেস্ক

ড্যাফোডিল পরিবার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান ৩য় ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের ‘আইসিটি পার্সন অব দ্য ইয়ার-২০১৮’ পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি পর্যায়ে তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের হাত থেকে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভি, মাক্রোসফট বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আরএফ হুসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির প্রমুখ।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সাল থেকে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি আ্যওয়ার্ড প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে ১৭ নভেম্বর বসেছিল এ আয়োজনের তৃতীয় আসর। এই আয়োজনে ডেইলি স্টারকে সহযোগিতা করেছে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক ও বেসিস। এবছর পুরস্কারের জন্য ৫টি বিভাগে ১৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে জুড়িবোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ৪টি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ড. মো. সবুর খানকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য বিশিষ্টজনের সঙ্গে ড. মো. সবুর খান। ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির উষালগ্ন থেকে একজন পথিকৃৎ প্রযুক্তিব্যবসায়ী হিসেবে এই খাতের উন্নয়নে ড. মো. সবুর খান নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ ও দেশের বাইরের দক্ষ আইটি পেশাজীবীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গত শতকের ৯০-এর দশকে একজন আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। তখন তিনি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠা করেন যেটি কম্পিউটার বিক্রির পাশাপাশি আইসিটির প্রশিক্ষণ প্রদান করত।

এরপর ড. খান ১৯৯৫ সালে এ্যাসেমব্লিং কম্পিউটারে প্রবেশ করেন এবং বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার সুপার স্টোর ধারণার প্রবর্তন করেন। এখন ড্যাফোডিল গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এক ডজনেরও বেশি বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ড্যাফোডিল। তিন দশকের ক্যারিয়ারে ড. খান আইটি খাতে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২০০২ সালে প্রথম আইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হয় ড্যাফোডিল। এ বিষয়ে ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘সেই সময়ে এটা ছিল অকল্পনীয়।’ একইবছরে তিনি তাঁর মেধা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যকে শিক্ষাখাতের দিকে নিবদ্ধ করেন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। ড্যাফোডিল গ্রুপ এখন স্বাস্থ্য ও ই-কমার্স খাতেও পা রেখেছে।

ড. মো. সবুর খান ২০১৩ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০২ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) পরিচালক এবং উইটসার বিশ্ব বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যামনাল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “উইটসা মেরিট এওয়ার্ড” এবং এবছর “এসোসিও  এডুকেশন এওয়ার্ড” পাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ইতিমধ্যে ড. মো. সবুর খান ‘এমটিসি গ্লোবাল আউটস্ট্যান্ডিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-আইসিটি’, ‘গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স ইন কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’, ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়াস মোস্ট ইন্সপায়ারিং নেশন বিল্ডার অ্যাওয়ার্ড’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনে প্রধানমন্ত্রী পদক’, ‘ইউটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনার’, ‘বেসিসের লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার’, ‘এইচএসবিসি স্বর্ণ পদক’, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের র‌্যাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ‘এশিয়ার শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী নেতা’র একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

Link Source: http://www.the-prominent.com/leadership-icon-article-6249/

ড. মো. সবুর খান পেলেন ‘লাইট অব এশিয়া’ পুরস্কার

  • লিডারশিপ ডেস্ক

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানকে ‘লাইট অব এশিয়া’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে ভারতের প্রখ্যাত স্কুল সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল (সিএমএস), লক্ষৌ। বৈশ্বিক ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কারণে সিএমএস স্কুলের ওয়ার্ল্ড ইউনিটি এডুকেশন বিভাগ (ডব্লিউইউইডি) তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করে। গত শনিবার (১৭ নভেম্বর) লক্ষৌতে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক প্রধান বিচারপতি সম্মেলনে সিটি মন্টেশ্বরী স্কুলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) অধ্যাপক গীতা গান্ধী কিংডন ড. মো. সবুর খানের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারাম, উত্তর প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ, সিটি মন্টেশ্বরী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপক ড. জগদীশ গান্ধী প্রমুখ।

বিমানবন্দরেই উষ্ণ অভ্যর্থনা: প্রধান বিচারপতিদের বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগ দিতে লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দরে পৌছার পর ড. মো. সবুর খানকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত করেন সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, তাঁকে গার্ড অব অনারও প্রদান করা হয় সিটি মন্টেশ্বরী স্কুলের পক্ষ থেকে।

গার্ড অব অনার গ্রহণ করছেন ড. মো. সবুর খান।

বিচারপতিদের মিলনমেলায়: বিচারপতিদের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ড. মো. সবুর খান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৫১’র এই সম্মেলনে বিশ্বের ১১৯টি দেশের ৪০০ অতিথি অংশগ্রহণ করেছিলেন। এখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিচারকদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলোচনা হয় ড. মো. সবুর খানের। কথা হয় সোমালিয়ার প্রধান বিচারপতি বাশে ইউসুফ আহমেদ ও ভারতে নিযুক্ত সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূত ইবিয়ান মোহামেদ সালাহর সঙ্গে। এই সম্মেলনেই ড. মো. সবুর খানের হাতে তুলে দেয়া হয় ‘লাইট অব এশিয়া’ পুরস্কার। পুরস্কার গ্রহণের পর ড. মো. সবুর খান বলেন, এমন সম্মানজনক পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই অভিভূত। সিএমএসকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সিএমএস শিক্ষাক্ষেত্রে সারা পৃথিবীর কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে।

বিচারপতিদের মিলনমেলায় ড. মো. সবুর খান (দ্বিতীয় সারিতে মাঝে)।
সোমালিয়ার প্রধান বিচারপতি বাশে ইউসুফ আহমেদ ও ভারতে নিযুক্ত সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূত ইবিয়ান মোহামেদ সালাহর সঙ্গে ড. মো. সবুর খান।

রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে, রাষ্ট্রপতিভবনে: সম্মেলনের অংশ হিসেবে ড. মো. সবুর খান ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কার্যালয় তথা রাষ্ট্রপতিভবন পরিদশর্নে গিয়েছিলেন। এটি ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে অবস্থিত। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রাসাদটি ছিল ভারতের ভাইসরয়ের সরকারি বাসভবন। সেই সময় এটি ‘ভাইসরয়’স হাউস’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫০ সালে প্রাসাদটি রাষ্ট্রপতি ভবন নামে পরিচিতি লাভ করে। রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ এই সরকারি বাসভবনটি ৩৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত। চারতলা এই ভবনে রয়েছে ৩৪০টি কক্ষ। এর মধ্যে লিভিং রুম ৬৩টি। এই ম্যানশনে উপহারসামগ্রী রাখার জন্য একটি জাদুঘর আছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যেসব উপহার পেয়ে থাকেন, তা এই জাদুঘরে রাখা হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনে রয়েছে একটি ক্লক টাওয়ার। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জে বি জয়সে অ্যান্ড কোম্পানি এটি তৈরি করে। ২৩ মিটার উঁচু এই ক্লক টাওয়ারটি নজর কাড়ে সবার। এছাড়াও এই ভবনের ৭৫ একরের বেশি জায়গাজুড়ে রয়েছে বাগান। রয়েছে জলাধার, প্রজাপতি কর্নার, বরইগাছের উদ্যান, আমবাগান, ময়ূর পয়েন্ট, কমলালেবুর বাগান ও বন। আছে নানা জাতের হাজার হাজার গাছগাছালি, পশুপাখি। এর অভ্যন্তরে রযেছে সুবিশাল এক খাবার ঘর। এটি ভোজকক্ষ নামে পরিচিত। এখানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়। এই কক্ষটি ১০৪ ফুট লম্বা ও ৩৪ ফুট প্রশস্ত। একসঙ্গে ১০৪ জন বসে খেতে পারে।

ভারতের রাষ্ট্রপতিভবনে ড. মো. সবুর খান।
রাষ্ট্রপতিভবনের সামনে ড. মো. সবুর খান।
বাগানশোভিত রাষ্ট্রপতি ভবন।
অনিন্দ্যসুন্দর রাষ্ট্রপতিভবন।
আলোঝলমলে রাষ্ট্রপতিভবন।
রাষ্ট্রপতিভবনের সুবিশাল ভোজকক্ষে ড. মো. সবুর খান।

গান্ধীজীর সমাধি পরিদর্শনে: নতুন দিল্লীর রাজঘাটে রয়েছে ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সমাধিসৌধ। এই সফরে গান্ধীজীর সমাধিও পরিদর্শন করেন ড. মো. সবুর খান। তিনি মহাত্মার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বলে রাখা ভালো, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেই বিশ্বব্যাপী পরিচিত। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

মহাত্মা গান্ধীর সমাধীসৌধের সামনে ড. মো. সবুর খান।

যে স্কুলের কথা না বললেই নয়: আজ থেকে ৫৫ বছর আগের কথা। মহাত্মা গান্ধীর ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন ড. জগদীশ গান্ধী। কিন্তু তাঁর পকেটে সম্বল মাত্র পাঁচ ডলার। তাতে কী? পথে নামলেই পথ খুঁজে পাওয়া যায়—এমনটা ভেবে তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠায় হাত দিলেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে জোগাড় করলেন পাঁচজন ছাত্র। আর এভাবেই যাত্রা শুরু হয়ে গেল সিটি মন্টেশ্বরী স্কুলের। ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে ১৯৫৯ সালে মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে যে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ড. জগদীশ গান্ধী, সেই সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল এখন শিক্ষার্থীসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কুল। এখানে পড়াশোনা করছে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী। তাই ২০১৩ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সিএমএসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কুলের স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার বৈশ্বিক ভূমিকাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০২ সালে ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার পেয়েছে সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল।

সিটি মন্টেশ্বরী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ড. জগদীশ গান্ধীর সঙ্গে ড. মো. সবুর খান।

শুধু পড়ালেখার মধ্যেই স্কুলটির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেননি ড. জগদীশ গান্ধী। সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল নিয়মিতভাবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ কনফারেন্স, ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া কনফারেন্স, ওয়ার্ল্ড কোয়ালিটি সামিট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ইন্টারন্যাশনাল লিটারারি ইংলিশ ফেস্ট, ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার অলিম্পিয়াড ইত্যাদির আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭-২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক প্রধান বিচারপতি সম্মেলন আয়োজন করেছিল সিটি মন্টেশ্বরী স্কুল।

Link Source: http://www.the-prominent.com/leadership-success-stories-6192/

AUAP এর সভাপতি হচ্ছেন ড. মো. সবুর খান

  • নিউজ ডেস্ক

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান Association of Universities of Asia and the Pacific (AUAP)-এর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট (২০১৯-২০২০) এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট (২০২১-২০২২) এবং সভাপতি (২০২৩-২০২৪) নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অটঅচ -এর ১৬তম সাধারণ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের সুরানারি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির রেক্টর অধ্যাপক ড. ইউরাপং পেয়ারসুয়াং এবং ভারতের হিন্দুস্তান গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আনন্দ জ্যাকব ভার্গিসকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ড. মো. সবুর খান AUAP’র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে সগৌরবে উত্তোলিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। এইউএপির নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ড. মো. সবুর খান স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে উত্তীর্ণ হবেন এবং দুই বছর এই পদে দায়িত্ব পালনের পর প্রেসিডেন্টের পদ অলঙ্কৃত করবেন। ফলে আগামী ৮ বছর আন্তর্জাতিক এই সংগঠনে নেতৃত্ব দেবেন ড. মো. সবুর খান।

আজ রোববার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মিট দ্য প্রেসে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব উল হক মজুমদার, ট্রেজারার হামিদুল হক খান, ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। মিট দ্যা প্রেস সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মোহাম্মদ সবুর খান বলেন,  বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো বেশি আন্তর্জাতিকীকরণ করতে হবে। এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময় প্রকল্প, সামার প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা প্রকল্প, শিক্ষক বিনিময় প্রকল্প ইত্যাদির আয়োজন করা উচিত। ইতিমধ্যে আমাদের দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের প্রোগ্রাম শুরু করেছে। ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সাধারণত শিক্ষা ব্যায় বেশি, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রোগ্রাম করতে হবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই এসব প্রোগ্রাম আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বাংলাদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Association of Universities of Asia and the Pacific (AUAP)-এর সদস্য হয়েছে। অটঅচ-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তারে একযোগে কাজ করা। আগামী ৮ বছর আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ভোট প্রদান করতে পারব। তিনি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কেও এই বৈশ্বিক রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, AUAP-তে এই অর্জন শুধু ড্যাফোডিলের নয়, বরং বাংলাদেশের। এই অর্জন আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। প্রথমত: এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত। AUAP-র ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি এই বৈশ্বিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত: এটি আমাদেরকে এই সত্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে, আমরা এখন বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তৃতীয়ত: এই অর্জনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো। আমাদের একটি অনন্ত সম্ভাবনাময় মেধাবী তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, সুতরাং আমরা অদূর ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হব, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মো. সবুর খান AUAP-র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বদরবারে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। এখন থেকে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব সহেজেই বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার্থে এবং বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি বিনিময় প্রোাগ্রাম, লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ সব ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য AUAP-র সদস্য হওয়ার পথও সুগম হলো। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে থেকে সরেজমিন অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং সেই মোতাবেক আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

Link Source: http://www.the-prominent.com/others-article-6262/

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অনেক সুযোগ

  • সংবাদ ডেস্ক

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে জানান ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. বার্নে গ্লোভার। অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাথেও এর দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন যেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়া সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। এটি ২০১৯ সালের র‌্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ১৯তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রয়েছে এক গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্প্রতি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানকে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপনরে জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি।

Link Source: http://www.the-prominent.com/others-article-6265/

AUAP এর নেতৃত্বে ড. মো. সবুর খান

 

  • লিডারশিপ ডেস্ক

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবমতে, দেশে এখন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখেরও বেশি। এর পেছনে শুধু কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতাই দায়ী নয়, বরং আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যাবস্থাও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই যুক্তির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, লাখে লাখে শিক্ষিত তরুণ কর্মসংস্থানের খোঁজে দেশের বাইরে যাচ্ছেন বটে, কিন্তু সেখানে তারা যথেষ্ট মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। মূল্যায়ন না পাওয়ার প্রথম কারণ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের তরুণদেরকে বিশ্ববাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে না; আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক রাজনীতি। বৈশ্বিক রাজনীতির চোখে বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের এক অনুন্নত দেশ, সেখানে নেই কোনো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই সেখানে মেধাবী তরুণ প্রজন্ম গড়ে ওঠার প্রশ্নই ওঠে না।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ড. মো. সবুর খান। ছবি: নাদিম চৌধুরী

এই দুই জায়গাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। প্রথমত: বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববাজারের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের সিলেবাসে আর্ট অব লিভিং, এমপ্লয়াবিলিটি ৩৬০ডিগ্রি, চেঞ্জ টুগেদার, ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া লেকচার সিরিজসহ নানা বিষয় যুক্ত করেছে। শিক্ষার্থীদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে চালু করছে ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ নামে চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্সের স্বতন্ত্র বিভাগ। দ্বিতীয়ত: বৈশ্বিক রাজনীতি মোকাবেলা করতে নিজেদেরকে যুক্ত করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী সব নেটওয়ার্কের সঙ্গে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের নামিদামি তিন শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছে। সমঝোতা অনুযায়ী ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন, গবেষণা করতে যাচ্ছেন, সংস্কৃতি বিনিময় প্রোগ্রাম, লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ নানা কিছুতে অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্বমঞ্চে জানান দিচ্ছেন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার। ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধীরে ধীরে ভুল ভাঙছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের। এসবের পাশাপাশি Kauffman Foundation, Global Entrepreneurship Network (GEN), Child & Youth Finance International (CYFI) ইত্যাদি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের Association of Universities of Asia and the Pacific (AUAP)-এর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করছেন একজন সাংবাদিক।

গত ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত AUAP-র ১৬তম সাধারণ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের সুরানারি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির রেক্টর অধ্যাপক ড. ইউরাপং পেয়ারসুয়াং এবং ভারতের হিন্দুস্তান গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. আনন্দ জ্যাকব ভার্গিসকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ড. মো. সবুর খান AUAP’র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে সগৌরবে উত্তোলিত হলো বাংলাদেশের পতাকা। AUAP’র নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ড. মো. সবুর খান স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে উত্তীর্ণ হবেন এবং দুই বছর এই পদে দায়িত্ব পালনের পর প্রেসিডেন্টের পদ অলঙ্কৃত করবেন। এরপর আরও দুই বছর তিনি এডভাইসরি কাউন্সিল কমিটিতে থাকবেন। ফলে আগামী ৮ বছর আন্তর্জাতিক এই সংগঠনে নেতৃত্ব দেবেন ড. মো. সবুর খান। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ড. মো. সবুর খান AUAP’র দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বদরবারে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। এখন থেকে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব সহেজেই বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার্থে এবং বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি বিনিময় প্রোাগ্রাম, লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ সব ধরনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য AUAP’র সদস্য হওয়ার পথও সুগম হলো। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে থেকে সরেজমিন অনেক কিছু শিখতে পারবে এবং সেই মোতাবেক আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এইউএপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করছেন ড. মো. সবুর খান।

গত রোববার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মিট দ্য প্রেসে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার, ট্রেজারার হামিদুল হক খান এবং ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। মিট দ্যা প্রেস সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মোহাম্মদ সবুর খান বলেন,  বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো বেশি আন্তর্জাতিকীকরণ করতে হবে। এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময় প্রকল্প, সামার প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা প্রকল্প, শিক্ষক বিনিময় প্রকল্প ইত্যাদির আয়োজন করা উচিত। ইতিমধ্যে আমাদের দেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের প্রোগ্রাম শুরু করেছে। ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সাধারণত শিক্ষা ব্যায় বেশি, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রোগ্রাম করতে হবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই এসব প্রোগ্রাম আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

শপথের কপি

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বাংলাদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় Association of Universities of Asia and the Pacific (AUAP)-এর সদস্য হয়েছে। AUAP-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তারে একযোগে কাজ করা। আগামী ৮ বছর আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ভোট প্রদান করতে পারব। তিনি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কেও এই বৈশ্বিক রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

AUAP’র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ড. মো. সবুর খানের প্রতিদ্বন্দ্বী—থাইল্যান্ডের অধ্যাপক ড. ইউরাপং পেয়ারসুয়াং এবং ভারতের ড. আনন্দ জ্যাকব ভার্গিস।

তিনি বলেন, AUAP-তে এই অর্জন শুধু ড্যাফোডিলের নয়, বরং বাংলাদেশের। এই অর্জন আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। প্রথমত: এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত। AUAP-র ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি এই বৈশ্বিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত: এটি আমাদেরকে এই সত্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে, আমরা এখন বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তৃতীয়ত: এই অর্জনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো। আমাদের একটি অনন্ত সম্ভাবনাময় মেধাবী তরুণ প্রজন্ম রয়েছে, সুতরাং আমরা অদূর ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হব, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, AUAP’র ভোটগ্রহণ শেষে AUAP’র প্রেসিডেন্ট ড. শাং হি ন্যাম ফলাফল ঘোষণা করেন এবং ড. মো. সবুর খানকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান।

ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ড. মো. সবুর খান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে AUAP’র সম্মেলনে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমুহের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের পতাকা না থাকাটা ছিল আমাদের জন্য ছিল ভীষণ বেদনার। বিগত পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করেছি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে বাংলাদেশেকে এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার। আজ সত্যিই আনন্দের দিন একারণে যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পতাকা AUAP’র মঞ্চে উড়ল।

ড. মো. সবুর খান বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের প্রেসিডেন্ট এবং AUAP’র প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদ নিলি আহমাদ আবাদি, সাউথ কোরিয়ার দায়েগু হেলথ কলেজের প্রেসিডেন্ট এবং AUAP’র প্রেসিডেন্ট ড. সাং হি ন্যাম, ফিলিপাইনের মাস্টার্স ইনস্টিটিউট ডেভলপমেন্ট একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারির প্রেসিডেন্ট ও AUAP’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. রিকার্ডো পামা, ফিলিপাইনের টার্লেক স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও AUAP’র সদস্য ড. মালারি মাইরনা, চীনের সিয়াস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ও AUAP’র এডভাইসরি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. শান এস চেন এবং ব্রুনেই দারুসসালামের সুলতান শরিফ আলী ইসলামিক ইউনিভার্সিটির রেক্টর এবং AUAP’র সদস্য ড. হাজি নোরারফান বিন হাজি জাইনালের প্রতি। কারণ এই ব্যক্তির্গ নির্বাচনের আগেই ড. মো. সবুর খানকে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এছাড়াও ড. মো. সবুর খান বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবিরের প্রতি, যিনি AUAP’র বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর।

এর আগে গত ৯-১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ঢাকায় QA meeting of AUAP আয়োজন করেছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তখন এইউএপি কোয়ালিটি এক্রিডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মো. সবুর খান। সেসময় বাংলাদেশে এক্রিডিটেশন সভায় যোদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইপিইকেএ’র সিইও এডভাইসর ড. জ্যানেট লরি ন্যাসন, ফুলব্রাইট থাইল্যান্ডের সাবেক পরিচালক পর্নটিপ কানজানানিয়ত, ইন্দোনেশিয়ার ডিরেক্টর অব পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিস ইউনিভার্সিটাস মোহাম্মাদিয়াহ ইয়োগায়াকাতার পরিচালক অধ্যাপক ড. শ্রী আতমাজা পুত্র, ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. রিজা আতিক আব্দুল্লাহ, ফিলিপাইনের অ্যাডামসন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ক্যাথেরিন কাস্তানেদা, AUAP’র সেক্রেটারি জেনারেল ও থাইল্যান্ডের টিম লিডার অধ্যাপক ড. রিকার্ডো পামা এবং AUAP’র এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুপাপর্ন চুয়াংসিডের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. মো. সবুর খান।

AUAP’র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ড. মো. সবুর খানের বিপক্ষে ছিলেন দুই জন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী—থাইল্যান্ডের অধ্যাপক ড. ইউরাপং পেয়ারসুয়াং এবং ভারতের ড. আনন্দ জ্যাকব ভার্গিস। তাঁদেরকে পরাজিত করা মোটেও সহজ ছিল না। ভোটের আগে ভোটারদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার একটি পর্ব ছিল। আর এই পর্বেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণে সক্ষম হন ড. মো. সবুর খান। সেখানে তিনি সৌভাগ্যক্রমে সবশেষে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ পান। ফলে তাঁর পূর্ববর্তী বক্তাদের সমস্ত কৌশল এড়িয়ে নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি। এইউএপির ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি কী কী কর্মসূচি গ্রহণ করবেন মূলত সেসবই ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দুই হাজার উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপের মাধ্যমে এখনো উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান। আগামী বছর তিনি ঢাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে Asian University Presidents Forum (AUPF) সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে তিনি কাজে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর এই ব্যতিক্রমী বক্তব্য ও উপস্থাপনা ভোটারদের মন কাড়ে এবং তার প্রতিফলন ঘটে ভোট বাক্সে। তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে AUAP’র সামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করেন ড. মো. সবুর খান। ডিসিসিআই-তে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়া যায় না। অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের পদ থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চপদে আসীন হতে হয়। AUAP-তেও ঠিক সেরকম। প্রথমে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট, তারপর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সবশেষে প্রেসিডেন্ট। ডিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ড. মো. সবুর খান অনেক সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। AUAP’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির উষালগ্ন থেকে একজন পথিকৃৎ প্রযুক্তিব্যবসায়ী হিসেবে এই খাতের উন্নয়নে ড. মো. সবুর খান নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ ও দেশের বাইরের দক্ষ আইটি পেশাজীবীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গত শতকের ৯০-এর দশকে একজন আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। তখন তিনি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স প্রতিষ্ঠা করেন যেটি কম্পিউটার বিক্রির পাশাপাশি আইসিটির প্রশিক্ষণ প্রদান করত।

এরপর ড. খান ১৯৯৩ সালে এ্যাসেমব্লিং কম্পিউটারে প্রবেশ করেন এবং বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার সুপার স্টোর ধারণার প্রবর্তন করেন। এখন ড্যাফোডিল গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এক ডজনেরও বেশি বড় বড় প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ড্যাফোডিল। তিন দশকের ক্যারিয়ারে ড. খান আইটি খাতে অনেক নতুন নতুন আইডিয়া অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২০০২ সালে প্রথম আইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হয় ড্যাফোডিল। এ বিষয়ে ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘সেই সময়ে এটা ছিল অকল্পনীয়।’ একইবছরে তিনি তাঁর মেধা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যকে শিক্ষাখাতের দিকে নিবদ্ধ করেন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। ড্যাফোডিল গ্রুপ এখন স্বাস্থ্য ও ই-কমার্স খাতেও পদার্পন করেছে।

ড. মো. সবুর খান ২০১৩ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০২ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি World Information Technology and Services Alliance (WITSA)-এর পরিচালক এবং উইটসার বিশ্ব বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “উইটসা মেরিট এওয়ার্ড” এবং এবছর “এসোসিও এডুকেশন এওয়ার্ড” পাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

মালয়েশিয়াভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন Top 10 of Asia ড. মো. সবুর খানকে ২০১৪ সালে ‘এশিয়ার শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী নেতা’র একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অতিসস্প্রতি ভারতের Kalinga Institute of Industrial Technology (KIIT) তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করেছে এবং ভারতের City Montessori School (CMS) তাঁকে প্রদান করেছে ‘লাইট অব এশিয়া’ পুরস্কার।

একজন অতিথি অধ্যাপক হিসেবে তিনি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও কিরগিজস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করেন। ইতিমধ্যে তিনি এক ডজনেরও বেশি ফেলোশিপ ও সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়েছেন ড. মো. সবুর খান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ইতিমধ্যে ড. মো. সবুর খান ‘দ্য ডেইলি স্টার বর্ষসেরা আইসিটি ব্যক্তিত্ব পুরস্কার’, ‘এমটিসি গ্লোবাল আউটস্ট্যান্ডিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-আইসিটি’, ‘গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স ইন কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’, ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়াস মোস্ট ইন্সপায়ারিং নেশন বিল্ডার অ্যাওয়ার্ড’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনে প্রধানমন্ত্রী পদক’, ‘ইউটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনার’, ‘বেসিসের লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার’, ‘এইচএসবিসি স্বর্ণ পদক’, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের র‌্যাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ড. মো. সবুর খান একটি স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। উদ্যোক্তা তৈরির উদ্দেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিজনেস ইনকিউবেটর, স্টার্টআপ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগ ইত্যদি।

একজন রিসোর্স পার্সন হিসেবে ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে ড. মো. সবুর খান দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার ও টক শোতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। উদ্যোক্তা উন্নয়নে তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন নির্দেশিকা’, ‘আর্ট অব ইফেক্টিভ লিভিং’ এবং ‘এ জার্নি টুওয়ার্ডস এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ নামে বই লিখেছেন।

এইউপি সম্মেলনের অতিথিদের সঙ্গে ড. মো. সবুর খান।

‘আর্ট অব লিভিং’ এবং ‘চেঞ্জ টুগেদার’ ধারনার পথিকৃৎ উদ্ভাবক হিসেবে ড. মো. সবুর খান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। Kauffman Foundation, Global Entrepreneurship Network (GEN), Child & Youth Finance International (CYFI)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি এনে দিয়েছে।

Link Source: http://www.the-prominent.com/leadership-success-stories-6193/

 

We need to change

Through workshops, memos, motivational sessions, official instructions and official policies and more, we have tried to improve the overall state and face of this university. This is because we know, that any leader or teacher who is unable to learn and develop skills as well as basic human skills will not be able to teach their students no matter how many memos and workshops we try to implement.

As you know, many universities worldwide have implemented Art Of Living programs and Change Together programs, we have implemented the Art of Living program before them. But our teachers themselves are not familiar with the Art of Living program themselves. And if our teachers are unable to learn about the Art of Living, then we cannot expect the students to be able to learn by themselves. Cause I believe, that when a teacher walks into a class and notices the actions and the characteristics of students, then later in his freetime, whether when it’s walking from class to class or during his break, takes their time to comment on the students livelihood then the primary goal of Art of Living has been achieved. For example, we can see when a teacher walks into an elevator, how do the students react, do they lower their bag? Do they lower their voice and stand to a side. How do they react when a teacher walks into a class? Are there any changes in their behavior?

Sometimes when we read the emails and comments of the students, we realize that this is just wrong, although not all students. But we can see from time to time that when something does occur, people aren’t afraid to blame the organization or the community without thought or consideration. We all know that each and every university student of ours have a maturity of themselves, if they’re able to influence their peers and their classmates then there will be an overall positive effect in our whole environment. Sometimes, when students are provided with guidance and feedback, they’re not able to understand it well and take it as an insult. Such as when laptops are given to them and programs given to them, they ask for better configurations and better branded laptops. Unfortunately, the 90% of our students that are mature and able to control themselves, they stay quiet. And I think that we should add a part in Art of Living where we inspire this 90% to work together to speak up about their perspectives. We can see throughout history that when people work together we are able to achieve great things and we need to tell these students that they need to rise up and speak up. So I request, that when you go to the rooms and the classes find out about your surroundings, keep it healthy, like when we want a room cleaned, we must keep it clean ourselves, we cannot rely on others and must change it ourselves because we know the people who use the room after us will insult us rather than anyone else.

I have a request that when people think of Daffodil that they think of a prideful and esteemed university that is the pride and will of the nation and when parents think of universities they think of Daffodil. From where great people will rise and graduate. So I request that all the teachers study and examine every aspect of Art of Living so that we can create a better community that will be able to have a benefit on our country as a whole. Because when we see the children and their comments on the university pages, we think of who nursed them. If we can develop our students then we can become a great university in which we can proudly say that Daffodil is the greatest and creates the best of the best.