Importance of Laughter in Human life

Importance of Laughter in Human life

 

মানুষের জীবনে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত একটি অমূল্য উপহার হচ্ছে হাসি। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ এই উপহারটি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। একটি মানুষের জীবনে হাসির গুরুত্ব অনেক। আমরা জানি মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজ ও পরিবার ছাড়া মানুষ একা একা বাঁচতে পারে না। মানুষকে সমাজের অন্য সকলের সাথে মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে হয় আর এভাবে বসবাসের লক্ষ্যে মানুষের সাথে মানুষের সুসম্পর্ক থাকাটা অত্যান্ত জরুরী। মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, সৌহার্দ্যতা, বিনয় ও মহানুভবতা এই সব কিছুর সংমিশ্রনেই তৈরী হয় একটি সুসম্পর্ক আর এই সব কিছুই সম্ভব হয় শুধু মাত্র এক টুকরো হাসির দ্বারা।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলতে ফিরতে ও কাজের সুবাদে অনেক রকম মানুষের সাথেই আমাদের দেখা ও কথা হয়। কেউ আমাদের পরিচিত আবার কেউ অপরিচিত। প্রতিদিন এমন হরেক রকম মানুষের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরীতে হাসি খুবই গুরুত্বপুর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। আমরা যদি কর্পোরেট লাইফের কথাই বলি, একটি কোম্পানীর Employee এর জন্য সব থেকে বড় দ্বায়িত্ব হচ্ছে তার গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। যখন একজন গ্রাহক কোন প্রোডাক্ট বা সেবা লাভের উদ্দেশ্যে কোন কোম্পানীতে যায় তখন যদি তাকে একটি হাসি ও সুন্দর ব্যবহার দ্বারা আমন্ত্রন জানানো হয় তবে ঐ কোম্পানী ও তাদের লোকজনের প্রতি ঐ গ্রাহকের নিকট একটি ভরসা ও বিশ্বাসযোগ্য স্থান তৈরী হয়। উদাহরণ স্বরুপ আমরা বলতে পারি হাসপাতাল ও হোটেল ট্যুরিজমের কথা যেখানে একমাত্র সুন্দর ব্যবহারকে পূঁজি করেই অনেক বড় বিজনেজ প্ল্যাটফর্ম তৈরী করা সম্ভব। 

শুধু মাত্র গ্রাহকদের জন্যই নয়, একটি কোম্পানীতে নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেও হাসি ও সুন্দর ব্যবহার অত্যান্ত জরুরী। Employeeরা যদি নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে না পারে তবে তারা কখনই পারবে না তাদের গ্রাহকদের সেরা সার্ভিস প্রদান করতে। তাই দিনের শুরুটা যদি তারা একে অন্যকে হাসি ও Greetings বিনিময়ের মাধ্যমে করে তবে একে অন্যের প্রতি একটি সুন্দর মনোভাব ও সন্তুষ্টি নিয়ে তারা তাদের কাজে যোগদান করতে পারে। এতে করে তাদের নিজেদের মধ্যে একে অন্যকে নানান রকম কাজে ও অসুবিধায় সাহায্য করার মনমানসিকতাও তৈরী হয়। একটি অফিসে যে যে ধরণের পজিশনেই থাকুক না কেন প্রত্যেকেই যদি এই অভ্যাসটি চর্চা করে তবে যে কোন কর্পোরেট অফিস খুব সহজেই একটি চমৎকার বন্ধুসুলভ কর্মক্ষেত্রে পরিণত হবে।

শুধুমাত্র প্রফেশনাল লাইফেই নয়, বরং পারসোনাল লাইফেও একটি পরিবারের মধ্যে ভাতৃত্ব্য ও সৌহাদ্রতা বজায় রাখার জন্য হাসি একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কোন মানুষই কখনও একা বাস করতে পারে না। তাকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে বাস করতে হয় আর সুখী জীবনযাপনের জন্য পরিবারের সকলের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। যে শিশু একটি হাসিখুশি পরিবারে বেড়ে ওঠে সে ঐ পরিবার থেকে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের শিক্ষা লাভ করে থাকে। কিভাবে হাসিখুশি ভাবে বেঁচে থাকা যায়, কিভাবে সমাজের মানুষের সাথে হাসিমুখে মিশতে হয়, কিভাবে সকলের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা যায় এ সব কিছুই সে শিখতে পারে তার পরিবারের কাছ থেকে। আর এ কারণে একটি পরিবারে সকলের উচিত আগে নিজেদের মধ্যে এই গুণাবলীর বিকাশ ঘটানোর যেন তারা তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে এই শিক্ষাগুলি দিয়ে যেতে পারে।

হাসিকে বলা হয় মানুষের আত্মার প্রতিধ্বনি। একটি মানুষের মনের মধ্যে কি লুকিয়ে আছে, তার মনটি অন্ধকার নাকি আলোকিত সেটি তার হাসি দেখলেই বোঝা যায়। অন্ধকার মানুষেরা কখনো মন খুলে হাসতে পারে না। যে মানুষ যত পবিত্র, তার হাসির মাঝেও ততই পবিত্রতা মিশে থাকে। হাসি একটি মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে। হাসি মানুষের টেনশন কমায়, শরীর ভালো রাখে বিশেষ করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যে মানুষ যত বেশী হাসিখুশি সে ততই নিজেকে টেনশন মুক্ত রাখতে পারে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, হাসির রয়েছে নানারকম শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা। হাসি শরীরে রক্তের প্রবাহ ও অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তের চাপ কমায় ফলে হৃদরোগের আশংকা অনেকটা হ্রাস পায়। একটি মানুষ দিনে কতবার হেসেছে তার মাধ্যমেই প্রকাশ পায় ঐ মানুষটির দিনটি কেমন কেটেছে। আর এই কারণেই বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন বলেছেন, “A Day Without Laughter is a Day Wasted”। অর্থাৎ এক টুকরো হাসি একটি মানুষের সারাটি দিনকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে এই কথাটির থেকে বড় উদাহরণ আর কিছুই হতে পারে না এবং এভাবেই আমরা বুঝতে পারি, হাসিখুশিভাবে কাটানো একেকটি দিনের সমন্বয়ে গঠিত একেকটি বছর ঐ মানুষটির জীবনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে এবং সর্বোপরি ঐ বছর গুলোর সমন্বয়ে ঐ মানুষটির গোটা জীবনটি কতটা মূল্য বয়ে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *